HSC অপরিচিতা গল্পের মূল কথা বা বিষয়বস্তু সংক্ষেপে

5/5 - (1 vote)

অপরিচিতা গল্পের মূল কথাঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমরা অনেকে বাংলা বইয়ের গদ্যাংশের অপরিচিতা গল্পের মূলভাব বা অপরিচিতা গল্পের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে জানতে চান ৷ তাই আপনাদের জানার কিংবা পড়ার জন্য আজকের পোষ্টটি আপনাদের উপকারে আসবে ৷ এরকম এইচএসসি বাংলা বইয়ের গদ্য ও পদ্য অংশের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসগুলো পেতে উপরে টপবারে HSC ক্যাটাগরিতে ক্লিক করুন ৷ আমাদের সাথেই থাকুন ৷৷ ধন্যবাদ ৷

আরও পড়ুণঃ— অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর, অপরিচিতা গল্পের MCQ, অপরিচিতা গল্পের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর, অপরিচিতা গল্পের মূল কথা বা মূলভাব, অপরিচিতা গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর ইত্যাদি ৷

HSC অপরিচিতা গল্পের মূল কথা বা বিষয়বস্তু সংক্ষেপে

অপরিচিতা গল্পের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে

যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের গল্প ‘অপরিচিতা’- ব্যক্তিত্বহীন এক যুবক অনুপমের জবানিতে লেখা। গল্পে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী কল্যাণী ও তার পিতা শম্ভুনাথ সেনের চারিত্রিক দৃঢ়তার ফলে সমাজে গেড়ে বসা ঘৃণ্য যৌতুক প্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে।

অনুপমের বয়স যখন অল্প, তার বাবা ওকালতি করে প্রচুর বিত্তের অধিকারী হয়েও ভোগ করার আগেই মারা যান। পিতৃহারা পুত্রকে তার মা এতটুকু কষ্ট করতে দেননি, ফলে সাধারণ ঘরের ছেলেদের মতো অনুপমের মানসিক বয়োবৃদ্ধি ঘটেনি। তার মামাই এখন অভিভাবক হয়ে সমস্ত সংসারটিকে কুক্ষিগত করেছেন। আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও শম্ভুনাথ বাবুর একমাত্র মেয়ে কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ের প্রস্তাব এলে তার মামা রাজী হয়ে যান।

বিয়ের দিন মামা আকস্মিকভাবেই কন্যাপক্ষের দেওয়া সমস্ত গহনা যাচাই করতে চাইলে শম্ভুনাথ বাবু বিস্মিত ও মনঃক্ষুণ্ণ হন। তিনি কল্যাণীকে আর অনুপমের হাতে সমর্পণ না করেই অতিথিদের যথারীতি আপ্যায়ন করিয়ে বিদায় দিলেন। বিয়েটা এভাবেই ভেঙে গেল।

অনেকদিন পর অনুপম তার মা’কে নিয়ে তীর্থে চলেছে। হঠাৎ কোনো এক অজানা স্টেশনে এক অপিরিচিতা মেয়ের কণ্ঠস্বর শুনে সে মুগ্ধ হয়। তার ভাষায়- “মনে হইল যেন গান শুনিলাম।” পরদিন একটি বড় স্টেশনে গাড়ি বদল করার সময় ঐ মেয়েটি অনুপম ও তার মা’কে ডেকে নিয়ে তাদের কামরায় বসতে দেয়। গাড়ি যখন কানপুরে এসে থামে, মেয়েটি তখন জিনিসপত্র গুছিয়ে নামার জন্য প্রস্তুতি নেয়। অনুপমের মা এ সময় তার নাম জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, তার নাম কল্যাণী ও বাবার নাম শম্ভুনাথ সেন। শুনে মা ও অনুপম দুজনেই চমকে ওঠে।

অনুপম পরে জানতে পারে চার বছর আগে তার সাথে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাবার পর সে আর বিয়ে করেনি। এর অন্যতম কারণ মাতৃভূমির প্রতি তার দায়বদ্ধতা। সে নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছে। এর পর অনুপমও আর বিয়ে করেনি। মাঝে মাঝে কানপুরে কল্যাণীর কাছে যায়। সুযোগ পেলে তার কাজে সহায়তা করে। এভাবেই অনুপম কল্যাণীকে নিজের করে পায়।

অপরিচিতা গল্পের মূলভাব

‘অপরিচিতা’ গল্পটি মূলত মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া ব্যক্তিত্বহীন যুবকের প্রেমানুভূতির গল্প। এ গল্পে অপরিচিতা মানসীর প্রতি প্রেমময় হৃদয়ের ব্যাকুলতার প্রকাশ ঘটেছে। গল্পের কল্যানী পুরো গল্প জুড়ে নায়ক অনুপম এর কাছে অপরিচিতাই রয়ে যায়। অনুপম মানসিকভাবে অনেক উপলব্ধি করার পরও শেষ পর্যন্ত কল্যাণীকে জয় করতে পারলো না। পরবর্তীতে কল্যাণীর বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞার ফলে কল্যাণী অনুপমের কাছে অধরা থেকে যায়। গল্পটিতে পুরুষ তন্ত্রের অমানবিকতার স্ফুরন যেমন ঘটেছে, তেমনি পুরুষের ভাষ্যে নারীর প্রশস্তিও কীতিত হয়েছে।

HSC অপরিচিতা গল্পের মূল কথা

অপরিচিতা যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ প্রতিবাদী গল্প। এই গল্পে কল্যাণী নামক এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এ গল্পেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম অমানবিক যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের আপসহীন বাক্যালাপ শুনিয়েছেন।

এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্র বীক্ষা ও আচরণে সমাজে গেড়ে বসা ঘৃণ্য যৌতুক প্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্র অনুপমের মামার অসদাচরণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিরোধের সূচনা করেছেন কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন। ফলে কল্যাণীর মধ্যে দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ঘটেছে, যা গল্পটিকে দিয়েছে সার্থক পরিসমাপ্তি।

অপরিচিতা উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প। গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধসংলগ্ন সময়ের বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তার বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননাকালে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা সম্প্রদানে অসম্মতি গল্পটির শীর্ষ মুহূর্ত।

অনুপম নিজের গল্প বলতে গিয়ে ব্যাঙ্গার্থে জানিয়ে দিয়েছে সেই অঘটন সংঘটনের কথাটি। বিয়ের লগ্ন যখন প্রস্তুত, তখন কন্যার লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার লৌকিকতাকে উপেক্ষা করে শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান এক নতুন সময়ের আবির্ভাবকে ইঙ্গিতময় করে তুলেছে। গল্পের শেষাংশে কল্যাণীর শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ ভবিষ্যতের নতুন নারীর আগমনীর ইঙ্গিত বহন করে।

অপরিচিতা মনস্তাপে ভেঙেপড়া এক ব্যক্তিত্বহীন যুবক অনুপমের অপরাধ স্বীকারের গল্প। তার আত্মবিবৃতির সূত্র ধরেই অসামান্য হয়ে উঠেছে এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কল্যাণী। গল্পটিতে পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার স্ফুরণ যেমন ঘটেছে, তেমটি একই সঙ্গে পুরুষের ভাষ্যে নারীর প্রশস্তি ও কীর্তিত হয়েছে।

সবশেষে, প্রিয় ভিউয়ার, আপনারা যারা অনলাইনে অপরিচিতা গল্পের মূল কথা সংক্ষেপে জানতে চেয়েছেন, তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি নিশ্চই উপকারে এসেছে ৷ যদি আপনি উপকৃত হোন তাহলে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন ৷